চাঁদে পানি তৈরি করতে সহজ উপায়ে পৌঁছেছে!
বিজ্ঞানীরা নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যা চাঁদের মাটি থেকে পানি আহরণ করা সম্ভব। প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতের চাঁদ অভিযাত্রীরা এক গুরুত্বপূর্ণ আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।
জার্নাল Joule-তে গবেষণায় বলা হয়েছে, এই প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহার করা গেলে পৃথিবী থেকে পানি পাঠানোর বিশাল ব্যয় অনেকটাই কমানো সম্ভব। বর্তমানে পৃথিবী থেকে চাঁদে পানি পাঠাতে প্রতি লিটার খরচ হয় প্রায় ২২,০০০ ডলার (গ্যালন প্রতি ৮৩,০০০ ডলার)।
চীনের Chang’E-5 মিশন থেকে ২০২০ সালে, আনা চাঁদের নমুনা ব্যবহার করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই নমুনা থেকে পানি বের করেছেন, দেখিয়েছেন যে এটিকে CO₂ সঙ্গে ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরি করা সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে, মহাকাশচারীর শ্বাস নেওয়ার জন্য O₂ , হাইড্রোজেন ভিত্তিক রাসায়নিক যা রকেট জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
গবেষকরা বলছেন, যে চাঁদের মাটির মধ্যে এমন কিছু লুকিয়ে আছে। বড় বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, এই সমন্বিত পদ্ধতির বাস্তব সাফল্য। পানি আহরণ এবং ফোটোথার্মাল CO₂ ক্যাটালাইসিস এক ধাপে একত্রিত করার ফলে শক্তি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো, অবকাঠামো উন্নয়নের খরচ ও জটিলতা কমানো সম্ভব হয়েছে।
প্রযুক্তিটি ফোটোথার্মাল পদ্ধতি ব্যবহার করে, অর্থাৎ সূর্যালোককে তাপে রূপান্তরিত করে পানি আহরণ এবং রাসায়নিক রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। ল্যাব পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা Chang’E-5 থেকে আনা আসল চন্দ্র মাটি, কৃত্রিমভাবে তৈরি নমুনা ব্যবহার করেছেন। এগুলোকে CO₂ এবং কেন্দ্রীভূত আলোতে উন্মুক্ত করে একটি বিশেষ রিঅ্যাক্টরে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। গবেষকদের মতে, এই CO₂ সহজেই পাওয়া যাবে, মহাকাশচারীর নিঃশ্বাস থেকে।
চাঁদের ধুলো থেকে পানি বের করার যেসব পদ্ধতি ছিল, সেগুলোতে বহু ধাপ, অনেক বেশি শক্তি দরকার হতো। কিন্তু এই নতুন একীভূত পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর। তবে গবেষকরা স্বীকার করেছেন, এখনো বড় কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
চাঁদের প্রচণ্ড তাপমাত্রার ওঠানামা, উচ্চ মাত্রার বিকিরণ ও মাটির গুণগত ভিন্নতা প্রযুক্তিটি বড় আকারে কাজে লাগাতে বাধা হতে পারে।
শুধু মহাকাশচারীর নিঃশ্বাস থেকে উৎপাদিত CO₂ পুরো প্রক্রিয়ার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। ক্যাটালাইটিক প্রক্রিয়াটি এখনো এতটা কার্যকর নয়, যে তা সম্পূর্ণভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবনধারণ নিশ্চিত করতে পারে।
তবে, এই অগ্রগতি চাঁদে দীর্ঘমেয়াদে মানব বসতি স্থাপনের স্বপ্নকে আরও বাস্তবসম্মত করেছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় এখন চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলার প্রবল আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, সেটিকে গভীর মহাকাশ অভিযানের লঞ্চপ্যাড হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর স্থানীয়ভাবে পানি আহরণের ক্ষমতা এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।
নতুন খবর পেতে এখনই Google News ফলো করুন।
ফলো করুন
ক্যাটাগরিঃ
space
